ভূমিকা

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর যিনি আমাদের জন্য কুরআনকে সংরক্ষণ করেছেন অক্ষর থেকে অক্ষরে, ধ্বনি থেকে ধ্বনি পর্যন্ত। সালাত ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মাদ (স) এর উপর যিনি আমাদের কাছে কুরআন পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে পালন করেছেন।

তাজয়ীদ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল সুন্দর করা, ভালো করা। শরয়ী পরিভাষায় কুরআন তিলাওয়াতের নিয়ম গুলোকে এক কথায় তাজয়ীদ বলে। কুরআন তিলাওয়াতে তাযয়ীদের নিয়ম রক্ষা করা জরুরী নতুবা অনেক ক্ষেত্রে অর্থের পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।

তাজয়ীদের গুনাবলীর অনেক ধাপ রয়েছে। একজন প্রসিদ্ধ ক্বারীর জন্য যে পারফেকশন বা গুনাগুন অর্জন করা জরুরী, সাধারণ একজন পাঠকের জন্য সেরকম পারফেকশন অর্জন করা জরুরী নয়। বরং সাধারণ পাঠকেরা একটা ন্যূনতম তাজয়ীদ জ্ঞান শিখে নেবে যাতে কুরআন তিলোয়াতের মৌলিক নীতির অনুসরণ নিশ্চিত হয়। 

আমাদের এই কোর্সটি মুলত তাদের জন্য যারা একদমই নতুন এবং কেবল প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। অনেক সময় দেখা যায় যে সাধারণ বাংলা বা ইংরেজী শিক্ষিত লোকেরা ক্বারীর ন্যায় পড়ার ভয়ে যতটুকু না হলেই নয় সেটুকুও অর্জন করার সাহস করে না। এলক্ষ্যে উপস্থাপনকে সহজ ও সরল করতে আমরা প্রয়োজনীয় একাডেমিক টার্মসগুলো বাদ দিয়ে নিজেদের ভাষায় লিখেছি যাতে মনে রাখা সহজ হয়।

আর একটা ব্যাপার পাঠককে মনে রাখতে হবে যে আরবদের পড়ার স্টাইলের সাথে আমাদের দেশের পড়ার স্টাইলে একটু পার্থক্য আছে। আমাদের এই নোটে আমরা দেশীয় স্টাইল অনুসরণ করেছি।

গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো তাজয়ীদ হল কন্ঠের কাজ, হামদ নাত শেখার মত। এগুলো কেবল নিয়ম পড়ে হয় না, উস্তাযদের থেকে শিখে নিতে হয়। সে সে লক্ষ্যে আমরা এখানে একজন উস্তাযের উচ্চারণ/তিলাওয়াত যোগ করেছি। পাঠকগণ এগুলো বার বার শোনার মাধ্যমে নিয়মগুলো আত্মস্থ করতে পারবেন। 

আল্লাহ আমাদের শিক্ষাকে সহজ করুক। আমীন।