সুরা ফাতিহা (৬-৭)

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও (১-৬)

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

পথপ্রদর্শন করা, দিকনির্দেশনা দেয়া,

هَدَى-يَهْدِي (هُدًى)

আপনি অন্ধদেরকে তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরিয়ে সৎপথে আনতে পারবেন না। (২৭.৮১)

وَمَا أَنتَ بِهَادِي الْعُمْيِ عَن ضَلَالَتِهِمْ

পথ প্রদর্শক

هَادٍ

আপনি কখনও তার জন্যে পথপ্রদর্শনকারী সাহায্যকারী পাবেন না। (১৮.১৭)

وَمَن يُضْلِلْ فَلَن تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُّرْشِدًا

পথ প্রদর্শক

مُرْشِدٌ

তখন যদি তারা আত্নসমর্পণ করে, তবে সরল পথ প্রাপ্ত হলো, (:২০)

فَإِنْ أَسْلَمُوا فَقَدِ اهْتَدَوا

পথ নির্দেশ পাওয়া, সৎপথে চলা

اهْتَدَى-يَهْتَدِي

নাকি যে লোক নিজে নিজে পথ খুঁজে পায় না, তাকে পথ দেখানো কর্তব্য

(১০: ৩৫)

أَمَّن لَّا يَهِدِّي إِلَّا أَن يُهْدَىٰ

পথ খুজে পাওয়া

يَهِدِّي

যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে (:১৮৬)

لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ

দিশা পাওয়া, সৎ পথে চলা

رَشَدَ-يَرْشُدُ

(رُشْدٌ، رَشَادٌ)

ইনশাআল্লাহ এবার আমরা অবশ্যই পথপ্রাপ্ত হব (:৭০)

وَإِنَّا إِن شَاءَ اللَّهُ لَمُهْتَدُونَ

দিশা প্রাপ্ত, সুপথপ্রাপ্ত

مُهْتَدٍ (ج) مُهْتَدُونَ

তারাই সৎপথ অবলম্বনকারী। ৪৯.

أُولَٰئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ

সৎপথ অবলম্বনকারী, সুপথপ্রাপ্ত

رَاشِدٌ (ج) رَاشِدُوْنَ

তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ নেই।(১১:৭৮)

أَلَيْسَ مِنكُمْ رَجُلٌ رَّشِيدٌ

সুপথে পরিচালিত, ন্যায়পন্থী

رَشِيْدٌ

ফেরআউন তার সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করেছিল (২০:৭৯)

وَأَضَلَّ فِرْعَوْنُ قَوْمَهُ

পথভ্রষ্ট করা, ধ্বংস করা

أَضَلَّ-يُضِلُّ

হেআমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদের অন্তরকে বক্র করে দিও না (-)

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا

বক্র করা, বিভ্রম ঘটানো

أَزَاغَ-يُزِيغُ

আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করে দেব। (৩৮:৮২)

لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ

পথচ্যূত করা,  পথভ্রষ্ট করা

أَغْوَى-يُغْوِي

তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি?

 (১০৫:)

أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ

পথচ্যূত করা, লক্ষ্যভ্রষ্ট করা, নস্যাৎ করা

تَضْلِيْلٌ

আর আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই। (৩৯:৩৭)

وَمَن يَهْدِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِن مُّضِلٍّ

পথভ্রষ্টকারী, বিভ্রান্তকারী

مُضِلٌّ(ج)مُضِلُّونَ

তোমাদের সংগী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। (৫৩:)

مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَىٰ

পথভ্রষ্ট হওয়া, দিক নির্দেশহীন থাকা, হারিয়ে যাওয়া

ضَلَّ-يَضِلُّ

(ضَلَالٌ، ضَلَالَةٌ)

অতঃপর তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন। (৬১:)

فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ

পথচ্যূত হওয়া, বিমুখ হওয়া, বিভ্রম ঘটা

زَاغَ-يَزِيغُ (زَيْغٌ)

তোমাদের সংগী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। (৫৩:)

مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَىٰ

বিপথগামী হওয়া, পথচ্যূত হওয়া

غَوَى- يَغْوِي (غَيٌّ)

তখন বললঃ আমরা তো পথ ভূলে গেছি।  (৬৮:২৬)

قَالُوا إِنَّا لَضَالُّونَ

পথভ্রষ্ট, দিশাহীন, বিপথগামী

ضَالٌّ (ج) ضَالُّونَ

মূসা তাকে বললেন, তুমি তো একজন প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট ব্যক্তি।(২৮:১৮)

قَالَ لَهُ مُوسَىٰ إِنَّكَ لَغَوِيٌّ مُّبِينٌ

পথভ্রষ্ট, দিশাহীন, বিপথগামী

غَوِيٌّ

বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে। (২৬: ২২৪)

وَالشُّعَرَاءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ

পথভ্রষ্ট

غَاوٍ (ج) غَاوُونَ

আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা সোজাপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। (২৩-৭৪)

 

وَإِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ عَنِ الصِّرَاطِ لَنَاكِبُونَ

পথভ্রষ্ট, দিশাহীন, বিপথগামী

نَاكِبٌ (ج)  نَاكِبُونَ

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও (-)

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

রাস্তা, পথ

صِرَاطٌ

তাদের জন্যে সমুদ্রে শুষ্কপথ নির্মাণ কর। (২০:৭৭)

لَهُمْ طَرِيقًا فِي الْبَحْرِ

পথ, পন্থা, পদ্ধতি, স্তর

طَرِيقٌ، طَرِيْقَةٌ (ج) طَرَائِقُ

জনপদটি সোজা পথে অবস্থিত রয়েছে। (১৫-৭৬)

 

وَإِنَّهَا لَبِسَبِيلٍ مُّقِيمٍ

পথ, রাস্তা, পন্থা, উপায়

سَبِيلٌ (ج) سُبُلٌ

এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দূররান্ত থেকে-দূ (২২:২৭)

وَعَلَىٰ كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِن كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ

গিরিপথ, প্রশস্ত রাস্তা, দীর্ঘ পথ

فَجٌّ (ج) فِجَاجٌ

অতঃপর তিনি এক উপায় অবলম্বন করলেন।   (১৮:৮৯)

 

ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا

উপায়, উপকরণ, মাধ্যম, রশি

سَبَبٌ (ج) أَسْبَابٌ

বস্তুতঃ আমি তাকে দুটি পথ প্রদর্শন করেছি। (৯০:১০)

وَهَدَيْنَاهُ النَّجْدَيْنِ

পথ, পন্থা

نَجْدٌ

আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন পথ দিয়েছি। (-৪৮)

لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا

পথ, পন্থা

مِنْهَاجٌ

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও (-)

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

সরল, সোজা, সঠিক, সুদৃঢ়

مُسْتَقِيْمٌ

এবং সংগত কথা বলে। (:)

وَلْيَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا

সরল, সঠিক, সোজা

سَدِيدٌ

সরলপথ আল্লাহ পর্যন্ত পৌছে এবং পথগুলোর মধ্যে কিছু বক্রপথও রয়েছে। (১৬-)

وَعَلَى اللَّهِ قَصْدُ السَّبِيلِ وَمِنْهَا جَائِرٌ

বিপথগামী, অত্যাচারী

جَائِرٌ

এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেননি। (১৮-)

وَلَمْ يَجْعَل لَّهُ عِوَجًا

বক্রতা, কুটিলতা, বন্ধুর

عِوَجٌ

সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। (-)

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ

অনুগ্রহ করা, প্রাচূর্য দেয়া,

أَنْعَمَ-يُنْعِمُ

আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন ( ৩:১৬৪ )

لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ

অনুগ্রহ করা, দয়া করা,

مَنَّ-يَمُنُّ (مَنٌّ)

তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আমাকে জেল থেকে বের করেছেন (১২:১০০)

وَقَدْ أَحْسَنَ بِي إِذْ أَخْرَجَنِي مِنَ السِّجْنِ

অনুগ্রহ করা, সদাচরণ করা, সৎকাজ করা, সুন্দর করা

أَحْسَنَ-يُحْسِنُ (إحْسَانٌ)

অতঃপর তিনি যখন তাকে নেয়ামত দান করেন(:8)

ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُ نِعْمَةً مِّنْهُ

দেয়া, দান করা, অনুগ্রহ করা

خَوَّلَ-يُخَوِّلُ

তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ন করে দিয়েছেন (৩১-২০)

وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً

পূর্ণ করে দেয়া, ভরপুর করে দেয়া

أَسْبَغَ-يُسْبِغُ

এবং যাদেরকে আমি পার্থিব জীবনে সুখসমৃদ্ধি দিয়েছিলাম (২৩:৩৩)

وَأَتْرَفْنَاهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا

সুখসমৃদ্ধি দেয়া,

أَتْرَفَ-يُتْرِفُ

যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান অনুগ্রহ দান করেন। (৮৯:১৫)

إِذَا مَا ابْتَلَاهُ رَبُّهُ فَأَكْرَمَهُ وَنَعَّمَهُ

অনুগ্রহ করা, দয়া করা

نَعَّمَ-يُنَعِّمُ

এবং তিনিই ধনবান করেন সম্পদ দান করেন। (৫৩:৪৮

وَأَنَّهُ هُوَ أَغْنَىٰ وَأَقْنَىٰ

সম্পদশালী করা

أَقْنَى-يُقْنِي

এবং একে অপরকে লানত করবে।(২৯:২৫)

وَيَلْعَنُ بَعْضُكُم بَعْضًا

অভিশাপ দেয়া, গালি দেয়া

لَعَنَ-يَلْعَنُ (لَعْنٌ، لَعْنَةٌ)

তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। (-)

غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

ব্যতীত

غَيْرُ

তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউ নেই। (:১৬৩)

لَّا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَٰنُ الرَّحِيمُ

ছাড়া/ব্যতী

إِلاَّ

যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন।(:৪৮)

 

 

مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ

ব্যতী

دُوْنَ

এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া, হবে, (৮৪: ১০)

وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ

ব্যতী/ পিছনে

وَرَاءَ

তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। (-)

غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

অভিশপ্ত, রোষানলে পতিত

مَغْضُوْبٌ

অভিশপ্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, ধরা হবে এবং প্রাণে বধ করা হবে। (৩৩-৬১)

مَّلْعُونِينَ ۖ أَيْنَمَا ثُقِفُوا أُخِذُوا وَقُتِّلُوا تَقْتِيلًا

অভিশপ্ত, অশুভ

مَلْعُونٌ (مَلْعُنَةٌ) (ج) مَلْعُنُون

এটা একটা ঝরণা, যার পানি পান করবে নৈকট্যশীলগণ। (৮৩-২৮)

 

عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا الْمُقَرَّبُونَ

নৈকট্যপ্রাপ্ত, প্রিয়

مُقَرَّبٌ (ج) مُقَرَّبُونَ